শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭

English

হাসিনার সফরে থাকবেন মমতা

প্রকাশিত
এপ্রিল ৬, ২০১৭
news-image

সব কিছু ঠিকঠাক চললেআগামী ৮ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এই মুহুর্তে এই মোদি-হাসিনার সাক্ষাত নিয়ে এখন ভারত এবং বাংলাদেশের উত্তেজনা তুঙ্গে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর উপলক্ষ্যে ৮ তারিখ রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন নরেন্দ্র মোদীও।

কলকাতা-খুলনা বাসযাত্রার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ৭ এপ্রিল রাতে দিল্লি পৌঁছবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরইসঙ্গে রাধিকাপুর-বিরল রেলযাত্রারও উদ্বোধন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, বারবার ইন্দো-বাংলাদেশ সু-সম্পর্কের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং রাজ্য সরকারের কাছ থেকে যে সাহায্য পাওয়া গিয়েছে, তার জন্য ধন্যবাদ।

৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেওয়ার আগে দুপুরে সরকারি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা।

সূত্রের খবর, চলতি দিল্লি সফরে রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সারদা থেকে নারদা, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা বা ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ কিংবা রামনবমী উপলক্ষ্যে গেরুয়া শিবিরের মেগা ইভেন্ট— বিভিন্ন ইস্যুতে চূড়ান্ত সংঘাত চলছে।

যদিও, রাজ্যের স্বার্থে যে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে সেই ইঙ্গিত বুধবার বাঁকুড়ার সভা থেকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিষ্ণুপুর-জয়রামবাটি রেলপথের প্রকল্প আমি স্যাংশন করেছিলাম। এই প্রকল্প আমি করবই। প্রয়োজনে আরও বড় দিঘী করে দেব। রাজ্যের স্বার্থে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে আরও একটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ, তা হল, তিস্তা জলচুক্তি নিয়ে কোনও কথা হয় কি না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে তিনি কিছু করবেন না।

উল্টোদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে মাথায় রেখে হাসিনারও তিস্তার জল একান্তই প্রয়োজন। আবার হাসিনার হাত দুর্বল হলে, বাংলাদেশকেও নিজের পাশে রাখা কঠিন হয়ে যাবে নয়াদিল্লির। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিতে হাসিনা-মমতা-মোদীর একইসঙ্গে উপস্থিতি ঘিরে জল্পনার পারদ তুঙ্গে।