শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

English

হাসিনার দিল্লি সফরে নতুন কানেক্টিভিটির উদ্যোগ দুই দেশের

প্রকাশিত
এপ্রিল ৩, ২০১৭
news-image

দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কলকাতা-খুলনা বাস এবং ট্রেন সার্ভিস এবং রাধিকাপুর-বিরল মালবাহী ট্রেন সার্ভিস আছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় এই সার্ভিস গুলি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হতে চলেছে। এই প্রসঙ্গে বংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘৮ এপ্রিল হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সার্ভিসগুলোর ফ্ল্যাগ-অফ করা হবে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, কলকাতা-খুলনা বাসটি কলকাতা থেকে উদ্বোধন করা হবে। কলকাতা-খুলনা ট্রেনটি খুলনা থেকে এবং রাধিকাপুর থেকে মালবাহী ট্রেনটি উদ্বোধন করা হবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কানেক্টিভিটি বিষয়ে ঢাকার অগ্রাধিকার প্রকল্পকে গুরুত্ব দিতে চায় ভারত। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন)-এর দ্রুত বাস্তবায়ন চায় ঢাকা। কিন্তু এ বিষয়ে ভুটান অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে বাকি তিন দেশ এ যোগাযোগ চালু করতে পারে কিনা, তা নিয়ে এবারের সফরে আলোচনা করা হবে। এ জন্য যদি বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল চুক্তির কোনও সংশোধনের প্রয়োজন হয়, সেটি সবাই মিলে করা সম্ভব।’

বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর বিষয়ে আলোচনা সম্প্রতি এগুচ্ছে না জানিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড হাইওয়েতে যোগ দিতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকা আরও আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এছাড়া মিজোরামের ডেমাগিরি ও রাঙামাটির থেগামুখ কাস্টমস স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব করেছে ভারত।

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সময়ে জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। তিনি জানান, বাংলাদেশ-ভারতের অধীনে যশোর ও খুলনা অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাইপলাইন দিয়ে রূপান্তরিত গ্যাস আমদানি, দুই দেশের জ্বালানি খাতে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের জন্য গবেষণার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহায়তা করা এবং একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য পেট্রোবাংলা ও ইন্ডিয়ান ওয়েল কোম্পানির মধ্যে পৃথক তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় জ্বালানি সংলাপ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

কুতুবদিয়ায় রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে ভারতের পেট্রোনেটের মধ্যে গত ডিসেম্বরে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময়ে এটি বাস্তবায়নের জন্য আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য দুই পক্ষ এ বৈঠকে আলোচনা করে।

যশোর ও খুলনা পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানি লিমিটেড উড়িষ্যার ধামড়া বন্দরের নির্মাণাধীন গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে যশোরের গ্যাস বিতরণ করার লাইনে সংযুক্ত হবে। পরবর্তী সময়ে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাস পাইপলাইন খুলনা পর্যন্ত বর্ধিত হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে সময় চেয়েছে ভারত।